সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়া কাকে বলে?

Rate this post
প্রবন্ধটি থেকে আপনি জানতে পারবেন সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়া কাকে বলে? বিষয়টি এখানে সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হলো।

সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়া

বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়া পদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ক্রিয়া ও যৌগিক ক্রিয়া।

সমাপিকা ক্রিয়া

যে ক্রিয়াপদ দ্বারা কাজের সমাপ্তি বোঝায়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। সমাপিকা ক্রিয়া সাধারণত কাল, পুরুষ, বচন ও বাচ্য পরিবর্তন করে। যেমন:

  • আমি পড়লাম। (অতীত কাল)
  • আমি পড়ছি। (বর্তমান কাল)
  • আমি পড়ব। (ভবিষ্যৎ কাল)
  • তুমি পড়ো। (একক পুরুষ, দ্বিতীয় বাচ্য)
  • তোমরা পড়ো। (বহুবচন পুরুষ, দ্বিতীয় বাচ্য)

অসমাপিকা ক্রিয়া

যে ক্রিয়াপদ দ্বারা কাজের সমাপ্তি বোঝায় না, বরং কাজের ধারাবাহিকতা, সাময়িকতা, সম্ভাব্যতা, হেতু, শর্ত, উপায় ইত্যাদি বোঝায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। অসমাপিকা ক্রিয়া সাধারণত কাল, পুরুষ, বচন ও বাচ্যের পরিবর্তন করে না। যেমন:

  • আমি পড়তেছি। (বর্তমান কাল)
  • আমি পড়তে যাব। (ভবিষ্যৎ কাল)
  • পড়ে তুমি ঘুমাও। (অসমাপিকা ক্রিয়া, হেতু বোঝায়)
  • যদি তুমি পড়ো, তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করব। (অসমাপিকা ক্রিয়া, শর্ত বোঝায়)

যৌগিক ক্রিয়া

দুটি বা ততোধিক সমাপিকা বা অসমাপিকা ক্রিয়া একত্রিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যৌগিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ক্রিয়াপদ আলাদাভাবে অর্থ বহন করে। যেমন:

  • সে গান গাইতে শুরু করল। (সমাপিকা + সমাপিকা)
  • সে পড়াশুনা করত। (সমাপিকা + অসমাপিকা)

উদাহরণ

  • সমাপিকা ক্রিয়া:
    • সে চলে গেল।
    • তারা খেলল।
    • তুমি বলবে।
  • অসমাপিকা ক্রিয়া:
    • আমি পড়তেছি।
    • সে আসতেছে।
    • তুমি ঘুমাতে যাও।
  • যৌগিক ক্রিয়া:
    • সে গান গাইতে শুরু করল।
    • সে পড়াশুনা করত।
    • তুমি খেলতে যাচ্ছ।

সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার

সমাপিকা ক্রিয়া সাধারণত বাক্যে মূল কাজ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অসমাপিকা ক্রিয়া সাধারণত বাক্যে কাজের ধারাবাহিকতা, সাময়িকতা, সম্ভাব্যতা, হেতু, শর্ত, উপায় ইত্যাদি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যৌগিক ক্রিয়া সাধারণত বাক্যে দুটি বা ততোধিক কাজের সমন্বয় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

বাংলা ভাষায় সমাপিকা, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়া সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে বাক্যকে সুন্দর ও অর্থবহ করা যায়।

অসমাপিকা ক্রিয়া চেনার উপায়

অসমাপিকা ক্রিয়া চেনার কিছু উপায় হলো:

  • অসমাপিকা ক্রিয়া সাধারণত কাল, পুরুষ, বচন ও বাচ্যের পরিবর্তন করে না। যেমন:

    • তুমি পড়তেছ। (বর্তমান কাল)
    • তুমি পড়তে যাবে। (ভবিষ্যৎ কাল)
    • পড়ে তুমি ঘুমাও। (অসমাপিকা ক্রিয়া, হেতু বোঝায়)
    • যদি তুমি পড়ো, তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করব। (অসমাপিকা ক্রিয়া, শর্ত বোঝায়)
  • অসমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা কাজের সমাপ্তি বোঝানো হয় না। যেমন:

    • তুমি পড়তেছ।
    • সে আসতেছে।
    • তুমি হয়তো পারো।
    • তুমি খেয়ে নাও, তাহলে ঘুমাতে পারবে।
    • তুমি যদি ভালো করে পড়ো, তাহলে ভালো রেজাল্ট পাবে।
  • অসমাপিকা ক্রিয়া সাধারণত বাক্যে কাজের ধারাবাহিকতা, সাময়িকতা, সম্ভাব্যতা, হেতু, শর্ত, উপায় ইত্যাদি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন:

    • তুমি পড়তে থাকো।
    • সে এখনই আসতেছে।
    • তুমি হয়তো পারো।
    • তুমি খেয়ে নাও, তাহলে ঘুমাতে পারবে।
    • তুমি যদি ভালো করে পড়ো, তাহলে ভালো রেজাল্ট পাবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া চেনার জন্য নিম্নলিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে:

  1. ক্রিয়াপদটি যদি কাল, পুরুষ, বচন ও বাচ্যের পরিবর্তন না করে, তাহলে তা অসমাপিকা ক্রিয়া।
  2. ক্রিয়াপদটি যদি কাজের সমাপ্তি বোঝায় না, তাহলে তা অসমাপিকা ক্রিয়া।
  3. ক্রিয়াপদটি যদি বাক্যে কাজের ধারাবাহিকতা, সাময়িকতা, সম্ভাব্যতা, হেতু, শর্ত, উপায় ইত্যাদি বোঝায়, তাহলে তা অসমাপিকা ক্রিয়া।

উদাহরণস্বরূপ, “পড়তেছ” ক্রিয়াপদটি কাল, পুরুষ, বচন ও বাচ্যের পরিবর্তন করে না। এটি কাজের সমাপ্তিও বোঝায় না। এটি বাক্যে কাজের ধারাবাহিকতা বোঝায়। তাই “পড়তেছ” একটি অসমাপিকা ক্রিয়া।

অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে বলে

অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে বলে যৌগিক ক্রিয়া। যেমন:

  • পড়তে শুরু করল। (অসমাপিকা + সমাপিকা)
  • সে পড়াশুনা করত। (সমাপিকা + অসমাপিকা)
  • তুমি খেলতে যাচ্ছ। (অসমাপিকা + অসমাপিকা)
  • সে গান গাইতে থামল। (সমাপিকা + অসমাপিকা)

যৌগিক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ক্রিয়াপদ আলাদাভাবে অর্থ বহন করে। যেমন, প্রথম বাক্যে “পড়তে” অসমাপিকা ক্রিয়া, যা কাজের ধারাবাহিকতা বোঝায়। “শুরু করল” সমাপিকা ক্রিয়া, যা কাজের শুরু বোঝায়। এই বাক্যে দুটি কাজের সমন্বয় বোঝা যাচ্ছে। প্রথমে সে গান গাইতে শুরু করল, তারপর সে গান গাইতে থাকবে।

যৌগিক ক্রিয়ার মধ্যে অসমাপিকা ক্রিয়ার কাজ সমাপ্ত হয় না। সমাপিকা ক্রিয়ার কাজ সমাপ্ত হয়।

সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য

সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়া তিনটিই বাংলা ব্যাকরণের ক্রিয়া পদ। এই তিনটি ক্রিয়াপদকে নিম্নলিখিত টেবিলের মাধ্যমে পার্থক্য করা যায়:

বৈশিষ্ট্য সমাপিকা ক্রিয়া অসমাপিকা ক্রিয়া যৌগিক ক্রিয়া
কাল, পুরুষ, বচন ও বাচ্যের পরিবর্তন হয় হয় না হয়
কাজের সমাপ্তি বোঝায় হ্যাঁ না হতে পারে
কাজের ধারাবাহিকতা হয় না হয় হয়
কাজের সাময়িকতা হয় হয় হয়
কাজের সম্ভাব্যতা হয় না হয় হয়
কাজের হেতু হয় না হয় হয়
কাজের শর্ত হয় না হয় হয়
কাজের উপায় হয় না হয় হয়

 

অন্য একটি পোস্ট দেখুন: ধ্বনি কি বা কাকে বলে?

আমাদের শেষ কথা

প্রবন্ধটির মাধ্যমে আপনি জানতে পেরেছেন সমাপিকা ক্রিয়া, অসমাপিকা ও যৌগিক ক্রিয়া কাকে বলে? আমরা প্রতিনিয়ত এরকম শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের পোস্ট করে থাকি। তাই আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখতে পারেন । আজ এই পর্যন্তই ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।

Leave a Comment