বাস্তুসংস্থান কাকে বলে? বাস্তুসংস্থানের প্রকারভেদ?

Rate this post

এই প্রবন্ধ থেকে জানতে পারবেন বাস্তুসংস্থান কাকে বলে? বাস্তুসংস্থানের প্রকারভেদ? নিচে বিষয়টি নিয়ে বিচার ভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

বাস্তুসংস্থান কাকে বলে

বাস্তুসংস্থান হলো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সমস্ত জীব ও তাদের আবাসস্থলের মধ্যেকার জৈবিক ও ভৌত পরিবেশের মধ্যেকার মিথস্ক্রিয়া। বাস্তুসংস্থানকে বলা হয় জীববৈচিত্র্যের একটি একক।

বাস্তুসংস্থানের প্রকারভেদ

বাস্তুসংস্থানকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  • প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান
  • মানবসৃষ্ট বাস্তুসংস্থান

প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান হলো সেইসব বাস্তুসংস্থান যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে। যেমন:

  • বন
  • জঙ্গল
  • সাগর
  • নদী
  • চর

মানবসৃষ্ট বাস্তুসংস্থান হলো সেইসব বাস্তুসংস্থান যা মানুষের হস্তক্ষেপে গড়ে ওঠে। যেমন:

  • কৃষিক্ষেত্র
  • পশুখামা
  • পার্ক
  • উদ্যান
  • জলাশয়

বাস্তুসংস্থানের উপাদান

বাস্তুসংস্থানের প্রধান উপাদান হলো:

  • জীব
  • অজৈব উপাদান

জীব হলো বাস্তুসংস্থানের প্রাণী ও উদ্ভিদ। বাস্তুসংস্থানে বিভিন্ন প্রজাতির জীব বাস করে। এই জীবগুলো পরস্পরের সাথে এবং তাদের আবাসস্থলের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে বাস্তুসংস্থান গঠন করে।

অজৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। যেমন:

  • বায়ু
  • পানি
  • মাটি
  • আলো
  • তাপমাত্রা
  • আর্দ্রতা

এই অজৈব উপাদানগুলো জীবের জীবনযাত্রার জন্য অপরিহার্য।

বাস্তুসংস্থানের উদাহরণ

বাস্তুসংস্থানের কিছু সাধারণ উদাহরণ হলো:

  • সুন্দরবন
  • হাইল্যান্ড
  • মরুভূমি
  • উষ্ণমণ্ডলীয় বনাঞ্চল
  • শীতল মণ্ডলীয় বন
  • কৃষিক্ষেত্র
  • পশুখামার
  • পার্ক

বাস্তুসংস্থান আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুসংস্থান আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, খাদ্য, জল, ঔষধ ইত্যাদি সরবরাহ করে। বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হলে আমাদের পরিবেশ ও জীবনযাপন ব্যাহত হয়। তাই আমাদের সকলের উচিত বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া।

বাস্তুসংস্থান তত্ত্ব

বাস্তুসংস্থান তত্ত্ব হলো একটি জৈবিক তত্ত্ব যা বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী এবং তাদের আবাসস্থলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে অধ্যয়ন করে। এই তত্ত্বটি বাস্তুসংস্থানবিদদের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে শক্তির প্রবাহ, পুষ্টির চক্র এবং অন্যান্য পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে।

বাস্তুসংস্থান ও বাস্তুতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য

বৈশিষ্ট্য বাস্তুসংস্থান বাস্তুতন্ত্র
সংজ্ঞা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণী এবং তাদের আবাসস্থলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে বলা হয় বাস্তুসংস্থান। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী জীবজগত এবং তাদের আবাসস্থল এবং এর মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্ককে বলা হয় বাস্তুতন্ত্র।
পরিবেশের সাথে সম্পর্ক বাস্তুসংস্থান পরিবেশের একটি অংশ। বাস্তুতন্ত্র পরিবেশের একটি উপাদান।
স্কেল বাস্তুসংস্থান বিভিন্ন আকারের হতে পারে, যেমন একটি ছোট পুকুর থেকে একটি বড় বন। বাস্তুতন্ত্র সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে।
প্রকারভেদ প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান এবং মানবসৃষ্ট বাস্তুসংস্থান। প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র এবং মনুষ্যপ্রভাবিত বাস্তুতন্ত্র।
উদাহরণ সুন্দরবন, হিমালয়, সমুদ্র, মরুভূমি, কৃষিক্ষেত্র, পশুখামার, পার্ক। সুন্দরবন, হিমালয়, সমুদ্র, মরুভূমি।

বাস্তুসংস্থান এবং বাস্তুতন্ত্র দুটিই জৈবিক এবং ভৌত পরিবেশের মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্কের উপর জোর দেয়। তবে, দুটি শব্দের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বাস্তুসংস্থান একটি বৃহত্তর ধারণা যা বাস্তুতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। বাস্তুসংস্থান সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে, যখন বাস্তুতন্ত্র বিভিন্ন আকারের হতে পারে। বাস্তুসংস্থান পরিবেশের একটি অংশ, যখন বাস্তুতন্ত্র পরিবেশের একটি উপাদান।

আমাদের অন্য একটি পোস্ট দেখুন: প্রস্বেদন কাকে বলে?

বাস্তুসংস্থানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

বাস্তুসংস্থান আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুসংস্থান আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, খাদ্য, জল, ঔষধ ইত্যাদি সরবরাহ করে। বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হলে আমাদের পরিবেশ ও জীবনযাপন ব্যাহত হয়।

বাস্তুসংস্থানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব হলো:

  • খাদ্য সরবরাহ: বাস্তুসংস্থান আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করে। বন, জঙ্গল, সমুদ্র, নদী ইত্যাদি বাস্তুসংস্থানে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে। এই উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো আমাদের খাদ্যের উৎস।
  • অক্সিজেন সরবরাহ: উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এই অক্সিজেন আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ব্যবহার করি। তাই বাস্তুসংস্থান আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে।
  • জল সরবরাহ: বৃষ্টি, নদী, হ্রদ, জলাশয় ইত্যাদি বাস্তুসংস্থানের অংশ। এই জল আমরা পান, রান্না, সেচ, শিল্প, কৃষি ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করি। তাই বাস্তুসংস্থান আমাদের প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ করে।
  • ঔষধ সরবরাহ: অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে ঔষধ তৈরি করা হয়। বাস্তুসংস্থানে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে। এই উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো থেকে আমরা বিভিন্ন রোগের ঔষধ পাই। তাই বাস্তুসংস্থান আমাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করে।
  • পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: বাস্তুসংস্থান পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বন, জঙ্গল, সমুদ্র, নদী ইত্যাদি বাস্তুসংস্থান বায়ু দূষণ, জল দূষণ, মাটি দূষণ ইত্যাদি পরিবেশগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
  • জীববৈচিত্র্য রক্ষা: বাস্তুসংস্থান জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাস্তুসংস্থানে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বাস করে। এই প্রজাতির বৈচিত্র্য আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।

বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের উপায়

বাস্তুসংস্থান আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের সকলের উচিত বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া। বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের কিছু উপায় হলো:

  • বন রক্ষা: বন আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের সকলের উচিত বন রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া।
  • জলাশয় রক্ষা: নদী, হ্রদ, জলাশয় ইত্যাদি বাস্তুসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আমাদের সকলের উচিত জলাশয় রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া।
  • প্রাণী হত্যা বন্ধ করা: প্রাণী হত্যা বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই আমাদের সকলের উচিত প্রাণী হত্যা বন্ধ করা।
  • পরিবেশ দূষণ রোধ করা: পরিবেশ দূষণ বাস্তুসংস্থানের ক্ষতি করে। তাই আমাদের সকলের উচিত পরিবেশ দূষণ রোধ করা।

বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণের জন্য আমাদের সকলের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমরা সকলে মিলে কাজ করলে বাস্তুসংস্থানকে রক্ষা করতে পারব।

Leave a Comment