প্রস্বেদন কাকে বলে? প্রস্বেদন কত প্রকার ও কি?

Rate this post

এই প্রবন্ধ থেকে আপনি জানবেন প্রস্বেদন কাকে বলে? প্রস্বেদন কত প্রকার ও কি? বিষয়টি নিয়ে বিস্তার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রস্বেদন কাকে বলে?

উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জল বাষ্পাকারে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে। মূল এবং ফুলের মাধ্যমেও প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন হতে পারে। উদ্ভিদ তার মূল দিয়ে জল শোষণ করে থাকে এবং পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষ দুটোর-স্ফীতি ও শিথিল অবস্থা পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বেশিরভাগ প্রস্বেদন সম্পন্ন হয়।

প্রস্বেদনের কারণ

প্রস্বেদনের কারণ হলো পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদের পাতায় থাকা জল বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে বেরিয়ে যাওয়া। এই বাষ্পীভবনের জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, তা উদ্ভিদের পাতায় থাকা সালোকসংশ্লেষণের ফলে উৎপন্ন শক্তি থেকে আসে। সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ সূর্যালোক, কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানি থেকে শর্করা তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় শক্তির উৎস হলো সূর্যালোক। এই শক্তির কিছু অংশ উদ্ভিদের পাতায় থাকা জল বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়।

প্রস্বেদনের প্রভাব

প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা উদ্ভিদের শীতল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় থাকা লবণ বায়ুমণ্ডলে বেরিয়ে যায়। এই লবণ বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করে পাতাকে আর্দ্র রাখে।

প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • উদ্ভিদের শীতলতা: প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা উদ্ভিদের শীতল রাখতে সাহায্য করে।
  • লবণের পরিবহন: প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় থাকা লবণ বায়ুমণ্ডলে বেরিয়ে যায়। এই লবণ বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করে পাতাকে আর্দ্র রাখে।
  • আর্দ্রতা বৃদ্ধি: প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় থাকা জল বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এই বাষ্প বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে।
  • জলের চলাচল: প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের মূল থেকে জল পাতায় উঠে আসে। এই প্রক্রিয়াকে জল উৎস্রবণ বলে।

প্রস্বেদনের প্রকারভেদ

প্রস্বেদন প্রধানত দুই প্রকার:

  • পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন: পাতায় থাকা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে যে প্রস্বেদন হয়, তাকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলে। এটি প্রস্বেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকার।
  • অপৃষ্ঠীয় প্রস্বেদন: পাতা ছাড়াও উদ্ভিদের অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ, যেমন: মূল, ফুল, কাণ্ড, ইত্যাদি থেকে যে প্রস্বেদন হয়, তাকে অপৃষ্ঠীয় প্রস্বেদন বলে।

প্রস্বেদনের নিয়ন্ত্রণ

উদ্ভিদের মধ্যে বেশ কিছু শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থা রয়েছে যা প্রস্বেদনের নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া: পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হয়। পত্ররন্ধ্র খোলা থাকলে প্রস্বেদন বেশি হয় এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ থাকলে প্রস্বেদন কম হয়।
  • পাতায় থাকা ত্বকের পাতলাত্ব: পাতায় থাকা ত্বক যত পাতলা হবে, প্রস্বেদন তত বেশি হবে।
  • পাতায় থাকা ট্রাইকোমস: পাতায় থাকা ট্রাইকোমস বা লোম প্রস্বেদনকে কমিয়ে দেয়।
  • তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায় এবং তাপমাত্রা হ্রাস পেলে প্রস্বেদন হ্রাস পায়।
  • আর্দ্রতা: বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে প্রস্বেদন হ্রাস পায় এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা হ্রাস পেলে প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায়।
  • বাতাসের গতিবেগ: বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধি পেলে প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায় এবং বাতাসের গতিবেগ হ্রাস পেলে প্রস্বেদন হ্রাস পায়।
  • কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব: বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে প্রস্বেদন হ্রাস পায় এবং বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব হ্রাস পেলে প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায়।

প্রস্বেদনের গুরুত্ব

প্রস্বেদন উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ:

  • প্রস্বেদন উদ্ভিদের শীতল রাখতে সাহায্য করে।
  • প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় থাকা লবণ বায়ুমণ্ডলে বেরিয়ে যায়।
  • প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের পাতায় থাকা জল বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এই বাষ্প বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে।
  • প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের মধ্যে জলের চলাচল ঘটে।

প্রস্বেদন উদ্ভিদের জীবনের জন্য অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া।

আরো একটি পোস্ট করুন: সনেট কাকে বলে?

উপসংহার

প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের পাতায় থাকা জল বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদের শীতলতা, লবণের পরিবহন, আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং জলের চলাচল ঘটে।

প্রস্বেদন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উদ্ভিদের মধ্যে বেশ কিছু শারীরবৃত্তীয় ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়া, পাতায় থাকা ত্বকের পাতলাত্ব, পাতায় থাকা ট্রাইকোমস, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতিবেগ এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য।

প্রস্বেদন উদ্ভিদের জীবনের জন্য অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া ছাড়া উদ্ভিদের অস্তিত্ব অসম্ভব।

Leave a Comment