নিষেক কাকে বলে? নিষেকের প্রকারভেদ ও গুরুত্ব?

Rate this post

এই প্রবন্ধটি থেকে জানতে পারবেন নিষেক কাকে বলে? নিষেকের প্রকারভেদ ও গুরুত্ব? নিচে বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

নিষেক কাকে বলে?

নিষেক হলো শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রক্রিয়া। এই মিলনের ফলে একটি নতুন প্রাণী সৃষ্টি হয়। নিষেক প্রক্রিয়াটি দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে শুক্রাণু ডিম্বাণুর কোষঝিল্লির সাথে সংযুক্ত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে শুক্রাণুর নিউক্লিয়াস ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়। এই মিলনের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।

নিষেকের প্রকারভেদ

নিষেকের প্রকারভেদ প্রধানত দুইটি:

  • বাহ্যিক নিষেক: এক্ষেত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু দেহের বাইরে মিলিত হয়। এ ধরনের নিষেক সাধারণত জলজ প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়।
  • অভ্যন্তরীণ নিষেক: এক্ষেত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু দেহের ভিতরে মিলিত হয়। এ ধরনের নিষেক সাধারণত স্থলজ প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়।

বাহ্যিক নিষেকের উদাহরণ

  • মাছ
  • ব্যাঙ
  • স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ডলফিন ও সাগরের কুমির

অভ্যন্তরীণ নিষেকের উদাহরণ

  • পাখি
  • স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মানুষ, কুকুর, বিড়াল, ইত্যাদি

নিষেকের প্রক্রিয়া

নিষেক প্রক্রিয়াটি প্রধানত দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়।

প্রথম পর্ব

শুক্রাণু ডিম্বাণুর কোষঝিল্লির সাথে সংযুক্ত হয়। এই সংযুক্তির ফলে শুক্রাণুর অ্যাক্রোসোম থেকে কিছু এনজাইম নিঃসৃত হয়। এই এনজাইমগুলো ডিম্বাণুর কোষঝিল্লি দ্রবীভূত করে দেয়। শুক্রাণুর লম্বা লেজ ডিম্বাণুর ভিতরে প্রবেশ করে।

দ্বিতীয় পর্ব

শুক্রাণুর নিউক্লিয়াস ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়। এই মিলনের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট হলো একটি নতুন কোষ। এই কোষে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর জিনগত উপাদান একত্রিত হয়।

নিষেকের প্রভাব

নিষেকের ফলে নিম্নলিখিত প্রভাবগুলি দেখা যায়:

  • বংশগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা: নিষেকের ফলে নতুন প্রাণীর জন্ম হয়। এই নতুন প্রাণী তার পিতামাতার বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করা হয়।
  • জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ: নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়। এই জাইগোট থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। ভ্রূণ থেকে পরিপূর্ণ প্রাণী সৃষ্টি হয়।
  • জীবের অভিযোজন: নিষেকের ফলে বিভিন্ন পরিবেশে জীবের অভিযোজনের জন্য বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিবর্তিত হয়। এভাবে জীবের অস্তিত্ব রক্ষা করা হয়।

নিষেকের নিয়ন্ত্রণ

নিষেকের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন উপায়ে করা যায়। এর মধ্যে কয়েকটি হলো:

  • ঔষধ দিয়ে: কিছু ঔষধ নিষেক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। যেমন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, কনডম ইত্যাদি।
  • অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুক্রাণু বা ডিম্বাণুকে অপসারণ করা যেতে পারে। যেমন, টিউবেক্টমি, ভ্যাসেকটমি ইত্যাদি।
  • প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে: প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে নিষেক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। যেমন, ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF), ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI) ইত্যাদি।

নিষেকের ঔষধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, কনডম ইত্যাদি ঔষধ নিষেক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িগুলিতে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোন থাকে। এই হরমোনগুলি ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর পরিপক্কতা এবং ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণুর নিঃসরণকে বাধাগ্রস্ত করে। কনডম হলো একটি পাতলা প্লাস্টিকের আবরণ যা পুরুষের লিঙ্গের উপর পরা হয়। কনডম শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে বাধা দেয়।

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিষেকের নিয়ন্ত্রণ

টিউবেক্টমি এবং ভ্যাসেকটমি হলো দুটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যা নিষেক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। টিউবেক্টমি হলো একটি মহিলা অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যা ডিম্বনালীগুলিকে বন্ধ করে দেয়। ভ্যাসেকটমি হলো একটি পুরুষ অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যা শুক্রনালীগুলিকে বন্ধ করে দেয়।

প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে নিষেকের নিয়ন্ত্রণ

ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) এবং ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI) হলো দুটি প্রজনন চিকিৎসা পদ্ধতি যা নিষেক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। IVF হলো একটি পরীক্ষাগারে করা নিষেক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে পরীক্ষাগারে একত্রিত করা হয়। IUI হলো একটি কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুকে ডিম্বাশয়ে সরাসরি প্রবেশ করানো হয়।

উপসংহার

নিষেক প্রক্রিয়াটি জীবের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নতুন প্রাণীর জন্ম হয়। নিষেকের ফলে জীবের বংশগতির ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়, জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে এবং জীবের অভিযোজন হয়। নিষেকের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন উপায়ে করা যেতে পারে।

Leave a Comment