অবচয় কাকে বলে? অবচয়ের কারণসমূহ?

5/5 - (1 vote)

এই প্রবন্ধটি থেকে জানতে পারবেন অবচয় কাকে বলে? অবচয়ের কারণসমূহ? এটি নিয়ে নিজে বিস্তার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অবচয় কাকে বলে?

অবচয় হলো সম্পত্তির মূল্যের ধীরে ধীরে হ্রাস। ব্যবহার, সময়, অবক্ষয়, বাজার মূল্যের পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পেতে পারে। অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

অবচয়ের কারণসমূহ

অবচয়ের প্রধান কারণসমূহ হলো:

  • ব্যবহার: সম্পত্তি ব্যবহারের ফলে তার মূল্য হ্রাস পায়। যেমন, একটি গাড়ি ব্যবহারের ফলে তার ইঞ্জিন, টায়ার, শরীর ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর মূল্য হ্রাস পায়।
  • সময়: সময়ের সাথে সাথে সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পায়। যেমন, একটি ভবন সময়ের সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর মূল্য হ্রাস পায়।
  • অবক্ষয়: প্রাকৃতিক কারণে সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পায়। যেমন, একটি ভবন প্রকৃতিগত দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর মূল্য হ্রাস পায়।
  • বাজার মূল্যের পরিবর্তন: বাজার মূল্যের পরিবর্তনের কারণে সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পায়। যেমন, একটি যন্ত্রপাতি বাজারে তার মূল্য হারালে এর মূল্য হ্রাস পায়।

অবচয়ের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। সাধারণভাবে অবচয়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

  • প্রকৃত অবচয়: ব্যবহার, সময়, অবক্ষয় ইত্যাদি কারণে সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পাওয়াকে প্রকৃত অবচয় বলে।
  • আর্থিক অবচয়: বাজার মূল্যের পরিবর্তনের কারণে সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পাওয়াকে আর্থিক অবচয় বলে।

অবচয়ের হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে নিম্নলিখিত সুবিধাসমূহ পাওয়া যায়:

  • সঠিক আর্থিক অবস্থা প্রকাশ: অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে ব্যবসার সঠিক আর্থিক অবস্থা প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
  • লাভ-ক্ষতির সঠিক হিসাব: অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে ব্যবসার লাভ-ক্ষতির সঠিক হিসাব করা সম্ভব হয়।
  • সঠিক কর ব্যবস্থাপনা: অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে ব্যবসার সঠিক কর ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।

অবচয়ের হিসাব

অবচয়ের হিসাব সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে করা হয়:

  • স্থির হারের পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে, সম্পত্তির মোট মূল্যকে তার আনুমানিক ব্যবহারের জীবদ্দশায় ভাগ করে প্রতি বছরের অবচয়ের হার নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত হারে প্রতি বছর অবচয় হিসাব করা হয়।
  • হ্রাসমান অবচয়ের পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে, সম্পত্তির মোট মূল্যকে তার আনুমানিক ব্যবহারের জীবদ্দশায় ভাগ করে প্রতি বছরের অবচয়ের হার নির্ধারণ করা হয়। তবে, প্রতি বছরের অবচয়ের হার নির্ধারণের সময় আগের বছরের অবচয়ের পরিমাণ বিবেচনা করা হয়। ফলে, প্রতি বছরের অবচয়ের হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
  • শতকরা হারের পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে, সম্পত্তির মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ প্রতি বছর অবচয় হিসাবে গণ্য করা হয়।

অবচয়ের হিসাব করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত:

  • সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা: সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা নির্ধারণ করা অবচয়ের হিসাব করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির ধরন, অবস্থা, ব্যবহারের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।
  • সম্পত্তির মূল্য: সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা অবচয়ের হিসাব করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির ক্রয়মূল্য, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়, স্থাপন ও পরীক্ষামূলক ব্যয় ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

অবচয়ের হিসাবের কিছু নিয়ম

  • অবচয়ের হিসাব করার সময় সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির ধরন, অবস্থা, ব্যবহারের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।
  • সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা অবচয়ের হিসাব করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির ক্রয়মূল্য, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়, স্থাপন ও পরীক্ষামূলক ব্যয় ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।
  • অবচয়ের হার নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত স্থির হারের পদ্ধতি, হ্রাসমান অবচয়ের পদ্ধতি এবং শতকরা হারের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
  • অবচয়ের হিসাব করার সময় সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কারণগুলো বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কারণগুলোর মধ্যে ব্যবহার, সময়, অবক্ষয়, বাজার মূল্যের পরিবর্তন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অবচয়ের হিসাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • অবচয়ের হিসাব করার সময় অবচয়ের হার নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অবচয়ের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা এবং সম্পত্তির মূল্য বিবেচনা করা হয়।
  • অবচয়ের হিসাব করার সময় অবচয়ের সময়কাল নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অবচয়ের সময়কাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির ব্যবহারের পরিমাণ এবং সম্পত্তির অবস্থা বিবেচনা করা হয়।
  • অবচয়ের হিসাব করার সময় অবচয়ের পদ্ধতি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অবচয়ের পদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্পত্তির ব্যবহারের হার এবং সম্পত্তির মূল্য বিবেচনা করা হয়।

অবচয়ের হিসাবের কিছু উদাহরণ

  • ধরুন, একটি ব্যবসা একটি গাড়ি ক্রয় করে যার ক্রয়মূল্য 50 লক্ষ টাকা। গাড়ির ব্যবহারের জীবদ্দশা 5 বছর ধরে ধরা হয়। তাহলে, গাড়ির প্রতি বছরের অবচয়ের হার হবে 50 লক্ষ টাকা / 5 বছর = 10 লক্ষ টাকা/বছর।
  • ধরুন, একটি ব্যবসা একটি যন্ত্রপাতি ক্রয় করে যার ক্রয়মূল্য 1 কোটি টাকা। যন্ত্রপাতির ব্যবহারের জীবদ্দশা 10 বছর ধরে ধরা হয়। তাহলে, যন্ত্রপাতির প্রতি বছরের অবচয়ের হার হবে 1 কোটি টাকা / 10 বছর = 10 লক্ষ টাকা/বছর।

অবচয়ের হিসাবের গুরুত্ব

অবচয়ের হিসাবের গুরুত্ব নিম্নরূপ:

  • অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার সঠিক আর্থিক অবস্থা প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
  • অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার লাভ-ক্ষতির সঠিক হিসাব করা সম্ভব হয়।
  • অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার সঠিক কর ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।

অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার সঠিক আর্থিক অবস্থা প্রকাশ করা সম্ভব হয় কারণ অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার লাভ-ক্ষতির সঠিক হিসাব করা সম্ভব হয় কারণ অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কারণে ব্যবসার লাভ হ্রাস পায়। অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার সঠিক কর ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয় কারণ অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কারণে ব্যবসার কর দায় হ্রাস পায়।

অবচয়ের হিসাবের বিভিন্ন পদ্ধতি

অবচয়ের হিসাব করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলো হলো:

  • স্থির হারের পদ্ধতি (Straight-Line Method): এই পদ্ধতিতে প্রতি বছর একই পরিমাণ অবচয় ধার্য করা হয়। অবচয়ের হার নির্ণয়ের জন্য নিম্নলিখিত সূত্র ব্যবহার করা হয়:

অবচয়ের হার = (সম্পত্তির মূল্য – ভগ্নাবশেষ মূল্য) / সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা

  • ক্রমহ্রাসমান অবচয়ের পদ্ধতি (Decreasing-Balance Method): এই পদ্ধতিতে প্রতি বছর অবচয়ের হার হ্রাস পায়। অবচয়ের হার নির্ণয়ের জন্য নিম্নলিখিত সূত্র ব্যবহার করা হয়:

অবচয়ের হার = (100 / সম্পত্তির ব্যবহারের জীবদ্দশা) * (সম্পত্তির মূল্য – অবচয়কৃত মূল্য)

  • উৎপাদন একক পদ্ধতি (Production-Unit Method): এই পদ্ধতিতে অবচয় নির্ধারিত হয় সম্পত্তির উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে। অবচয়ের হার নির্ণয়ের জন্য নিম্নলিখিত সূত্র ব্যবহার করা হয়:

অবচয়ের হার = (সম্পত্তির মূল্য – ভগ্নাবশেষ মূল্য) / সম্পত্তির মোট উৎপাদন ক্ষমতা

  • শ্রম ঘণ্টা পদ্ধতি (Machine-Hour Method): এই পদ্ধতিতে অবচয় নির্ধারিত হয় সম্পত্তির ব্যবহারের সময়ের ভিত্তিতে। অবচয়ের হার নির্ণয়ের জন্য নিম্নলিখিত সূত্র ব্যবহার করা হয়:

অবচয়ের হার = (সম্পত্তির মূল্য – ভগ্নাবশেষ মূল্য) / সম্পত্তির মোট কার্যকাল

অবচয়ের হিসাবের জাবেদা

অবচয়ের হিসাবের জন্য নিম্নলিখিত জাবেদা ব্যবহার করা হয়:

  • অবচয় ধার্য করার জাবেদা:
ডেবিট, অবচয় হিসাব
ক্রেডিট, অবচয় সঞ্চিতি হিসাব
  • অবচয় সঞ্চিতি হ্রাস করার জাবেদা:
ডেবিট, সম্পত্তি হিসাব
ক্রেডিট, অবচয় সঞ্চিতি হিসাব

অবচয়ের হিসাবের কিছু সীমাবদ্ধতা

অবচয়ের হিসাবের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • অবচয়ের হার নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।
  • অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে সম্পত্তির আসল মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না।
  • অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে অতিরিক্তভাবে দেখানো হতে পারে।

হিসাববিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে দেখুন: হিসাব বিজ্ঞান কাকে বলে?

অবচয়ের হিসাবের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ব্যবহার

অবচয়ের হিসাবের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ব্যবহার রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • আর্থিক বিবরণী প্রণয়ন: অবচয়ের হিসাব আর্থিক বিবরণী প্রণয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসকে হিসাবরক্ষণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ফলে, আর্থিক বিবরণীতে সম্পত্তির সঠিক মূল্য প্রদর্শিত হয়।
  • লাভ-ক্ষতির হিসাব: অবচয়ের হিসাব লাভ-ক্ষতির হিসাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কারণে ব্যবসার লাভ হ্রাস পায়। ফলে, অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার সঠিক লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
  • কর ব্যবস্থাপনা: অবচয়ের হিসাব কর ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অবচয়ের মাধ্যমে সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কারণে ব্যবসার কর দায় হ্রাস পায়। ফলে, অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার সঠিক কর ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।

অবচয়ের হিসাবের মাধ্যমে ব্যবসার সঠিক আর্থিক অবস্থা, লাভ-ক্ষতি এবং কর ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়।

Leave a Comment